নিজস্ব প্রতিবেদক :
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায় ও জাল স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম (৪৮) শনিবার চৌমুহনী প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে এ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি জানান, গত ২৪ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে জমিদারহাট বড়পোল এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ৬ জন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। পরে চট্টগ্রামের লালখান বাজার এলাকার একটি বাড়িতে আটকে রেখে তাকে মারধর, উলঙ্গ করে নির্যাতন এবং বৈদ্যুতিক শর্ট দেওয়া হয়।
সাইফুলের অভিযোগ, অপহরণকারীরা তার কাছ থেকে ১০০ টাকার ২৪টি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় এবং ডাচ বাংলা ব্যাংকের ২০টি চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করায়। এ সময় তাকে দিয়ে ইসলামবিরোধী বক্তব্য বলিয়ে ভিডিও রেকর্ড করা হয় এবং পরবর্তীতে তা প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, মুক্তির জন্য তাকে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হয়েছে। এছাড়া তার স্বাক্ষর করা চেকগুলোর মধ্যে একটি ৭৫ কোটি টাকা এবং আরেকটি ৭০ লাখ টাকার চেক ডিসঅনার হয়। তদন্তে জানা যায়, ৭৫ কোটি টাকার চেকটি আব্দুল জলিল নামের এক ব্যক্তির নামে ডিসঅনার হয়েছে।
সাইফুল ইসলামের অভিযোগ অনুযায়ী, এ ঘটনায় বেগমগঞ্জের জিরতলী বাজার এলাকার মৃত আবদুল করিমের ছেলে আব্দুল জলিল মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে জড়িত। এছাড়াও মামুন ইসলাম, হাফেজ ইব্রাহিম ও কাদের নামের আরও কয়েকজনকে তিনি অভিযুক্ত করেন।
বর্তমানে এ ঘটনার তদন্ত সিআইডির অধীনে চলছে। তবে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এখনো তাকে এবং তার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি দেশবাসী ও প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার, জোরপূর্বক নেওয়া স্ট্যাম্প, চেক ও রেকর্ডিং ফেরত, মুক্তিপণের টাকা ফেরত এবং ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এই সময় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply