বিশেষ প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রগঞ্জ বাজার সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় ডুবে যায়। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর এই বাজারই জেলার অন্যতম বড় রাজস্ব আদায়ের উৎস। কিন্তু খাল দখল ও পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় কয়েক দশক ধরে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের দক্ষিণ পাশ দিয়ে প্রবাহিত পুরনো একটি খাল প্রায় দুই যুগ আগে “মুক্তিযোদ্ধা খাল” নামে পরিচিত হয়। এই খাল সরাসরি রহমতখালি খালের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে খালটি প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যায়।
সরেজমিন দেখা গেছে, নিউমার্কেট থেকে গরুহাটা হয়ে বাঁধেরগোড়া পর্যন্ত দক্ষিণ পাশের পানি প্রবাহের একমাত্র পথ এই খাল। সরকারিভাবে বাজার এলাকায় চারটি ড্রেন নির্মাণ করা হলেও সেগুলো এখন দখল হয়ে যাওয়ায় কোনো কাজ হচ্ছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই বাজারের প্রধান সড়ক ও দোকানপাট হাঁটু সমান পানিতে ডুবে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবুল কাশেম, রনজিত দেবনাথ, কার্তিক চন্দ্র দেবনাথ, আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন, আওয়ামীলীগের নেতা গৌতম চন্দ্র মজুমদার, সাহাব উদ্দিন, প্রবাসী হাজী সৈয়দ আহম্মদ, সমীর দেবনাথ, জিল্লাল, সুমনসহ আরও কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে খালের জায়গা দখল করে স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। যদিও তাদের দাবি জমি একসনা নথির ভিত্তিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, খালের উত্তরপাড়ে থাকা প্রায় ৩৫টি নথি জেলা প্রশাসক বাতিল করেছেন। লিজের শর্ত ভঙ্গ করে স্থাপনা নির্মাণের কারণে এই সিদ্ধান্ত হলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো উচ্ছেদ অভিযান হয়নি।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ বলেন, আমরা নিয়মিত খাজনা দিচ্ছি। অথচ সামান্য বৃষ্টিতেই দোকান ডুবে যায়, আমাদের অনেক ক্ষতি হয়।
অন্য ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির বলেন, পানি নিষ্কাশনের সমস্যা এখন প্রতিদিনের ভোগান্তি। খাল দখলমুক্ত না করলে ব্যবসা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভি দাস জানান, খাল দখল ও ৩৫টি নথি বাতিলের বিষয়ে এখনো অবহিত নই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা বলছেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে না পারলে চন্দ্রগঞ্জ বাজারে বর্ষা মৌসুম মানেই হবে পানিবন্দি জীবন ও লোকসানের ব্যবসা।
Leave a Reply