নিজস্ব প্রতিবেদক
লক্ষ্মীপুর জেলার বহুল আলোচিত গণধর্ষণ মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. রহিম (৪৪) দীর্ঘদিন পালিয়ে বেড়ানোর পর শেষ পর্যন্ত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর অভিযানে ধরা পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানাধীন আন্ডারচর ইউনিয়নের নিজ বাড়ির সামনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত রহিম আন্ডারচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং আব্দুল গনির ছেলে।
২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর কমলনগর থানায় দায়ের হওয়া গণধর্ষণ মামলার (মামলা নং-১১, জিআর-১৫৮/২০১৪, নারী ও শিশু মামলা নং-১৩৩/২০১৫) বিচার শেষে ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, লক্ষ্মীপুর রহিমকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। রায় ঘোষণার পর থেকেই রহিম গ্রেফতার এড়াতে দেশের বিভিন্ন জেলায় আত্মগোপনে ছিল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাদের আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে রহিমের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে রাত আড়াইটার দিকে তার বাড়ির সামনে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রহিম নিজেকে উক্ত মামলার আসামি হিসেবে স্বীকার করে এবং মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিষয়টিও মেনে নেয় বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু বলেন—
“২০১৪ সালের এই মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতার করতে দীর্ঘদিন আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। অবশেষে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। অপরাধী যতই শক্তিশালী বা চতুর হোক না কেন, আইনের হাত থেকে কেউ রক্ষা পাবে না। অপরাধীরা শাস্তি এড়াতে পারবে না।”
গ্রেফতারকৃত রহিমকে পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়ার জন্য নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
Leave a Reply