নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতে গণপূর্ত বিভাগের লীজকৃত দোকান ভিটি জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যক্তিগত নামে খতিয়ান করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুই দোকানি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
বুধবার দুপুরে মাইজদীর একটি কনভেনশন হলে সংবাদ সম্মেলন করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আলা উদ্দিন ও তার ভাই এম কাউসার।
সংবাদ সম্মেলনে এম কাউসার জানান, তিনি ও তার ভাই ১৯৯৯ সালে নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগ থেকে জেলা শহরের সোনালী ব্যাংক আঞ্চলিক কার্যালয়ের পাশে একটি দোকান ভিটি লীজ নিয়ে ‘মালিহা কম্পিউটার অ্যান্ড ফটোকপি’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। শুরু থেকেই তারা নিয়মিত খাজনা ও সরকারি সকল ফি পরিশোধ করে আসছেন।
কিন্তু সম্প্রতি পাশের দোকান ‘ইয়োরো শপিং কমপ্লেক্স’-এর মালিক বাচ্চু মিয়া কিছু অসাধু সরকারি কর্মকর্তার সহায়তায় তাদের দোকানের ভিটি নিজের নামে রেকর্ড ও খতিয়ান করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এম কাউসারের ভাষায়, বাচ্চু মিয়া শুধু নিজের লীজের জায়গাই নয়, আমাদের লীজকৃত দোকানটিও নিজের নামে খতিয়ান করার পাঁয়তারা করছে। আমরা গণপূর্ত ও ভূমি বিভাগে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে গণমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়েছি। এ ঘটনায় তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এম কাউসার ও তার ভাই আলা উদ্দিন।
অভিযুক্ত বাচ্চু মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জায়গাটি আমি সরকার থেকে স্থায়ী বন্দোবস্ত নিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিটও রয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সেখানে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। জায়গাটি গণপূর্তের নয়, এটি আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, আমি সদ্য এ জেলায় যোগদান করেছি। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড করার এমন ঘটনা তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
Leave a Reply