নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আলোচিত কানকাটা কাদিরা হত্যাকাণ্ডের সাত দিন পর ঘটনাটির মূল রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সৌদি আরব প্রবাসীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চেরাং বাড়ির বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী মো. ইদ্রিস ওরফে মানিক (৩৪), একই এলাকার মোহাম্মদ রাকিব (২৬) এবং মো. জাফর (২৮)।
শনিবার ভোরে শরীফপুর ইউনিয়নের চেরাং বাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে বেগমগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ। পরে বিকেলে তাদের নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়।
নিহত আব্দুল কাদের জিলানী ওরফে কানকাটা কাদিরা চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. গোফরানের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন মানিক। দেশে আসার পর কানকাটা কাদিরা তার কাছে ইয়াবা সেবনের জন্য টাকা দাবি করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এ সুযোগে কাদিরার প্রতিপক্ষ রাকিব ও জাফরসহ একটি সশস্ত্র গ্রুপ তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
গত শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে, বেগমগঞ্জের হাজীপুর গ্রামের মুন্নার দোকানের সামনে কাদিরার ওপর হামলা চালায় ১০–১৫ জন দুর্বৃত্ত।
তারা প্রথমে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর মরদেহ পাশের ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বেগমগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক কুতুব উদ্দিন লিয়ন বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পরিবার থানায় মামলা দায়ের করে। টানা অনুসন্ধানের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাত দিন পর তিনজনকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
Leave a Reply